Showing posts with label জুলুম-অবিচার. Show all posts
Showing posts with label জুলুম-অবিচার. Show all posts

Wednesday, November 2, 2016

সুশান্ত পাল পাগল আর বাঁকিরা ছাগল



সুশান্ত স্ট্যাটাসে কি লিখেছিল? ঢাবির হলগুলোর টর্চার সেল নিয়ে কথা বলেছে, মেয়েদের কুত্তী বলে সম্বোধন করেছে। এই স্ট্যাটাস পড়ে মেজাজটা আমারও খারাপ হয়েছিল। সুশান্ত বিসিএসএ ফার্স্ট হয়ে আকাশে উড়ছিল। একজন মানুষ আকাশে উড়তে পারেনা, মাটিতেই তার বসবাস। পতন অবশ্যম্ভাবী ছিল। একটু দ্রুতই তা হলো আর কি। নিজেকে ফার্স্ট হিসেবে সেল্ফ জাজমেন্ট করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নস্যি প্রমাণ করতে চেয়েছিল। হাস্যকর, উদ্ভট আর উর্বর মস্তিস্কের চিন্তা। একাডেমিক মেধা আর সমাজ কাঠামোর আওতায় স্মার্টলি মুভের ডিফারেন্সটা সুশান্ত বুঝতে পারেনি। যা হওয়ার তাই হয়েছে।


ব্যক্তি সুশান্তের সাফল্য আর পতন দেখার সময় ও ইচ্ছে কোনটাই নেই। সুশান্তের মোটিভেশনাল স্পীচের দুএকটা ভিডিও দেখার পর দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি, আমি ওনার চেয়ে ঢের ভাল বলতে পারবো। সমস্যা তাতে কেউ মোটিভেটেড হবে না।

সুশান্ত পাগলের কথা বাদ। প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের মেধাবীরা সুশান্ত ইস্যুতে যে লাফালাফি করল, তাতে আউটসাইডাররা নি:শন্দেহে প্রচণ্ড বিরক্ত হয়েছে। ঢাবির একজন না হয়ে নাগরিক একজন হয়ে চিন্তা করলে উল্টো তাদের লজ্জা পাওয়া উচিৎ। কোথাকার এক ফার্স্টবয়ের সাথে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় কম্পিটিশন করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র, ভিসি, প্রক্টর সুশান্তকে নিয়ে কথা বলছে। আর অধিকাংশ বর্তমানদের টাইমলাইনে সে কি মাতোম! জাত গেল, জাত গেল.........

আজ দেখলাম- ওকে চাকুরী থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে মানসিক ডাক্তার দেখানোর সুপারিশ করেছে সরকারী অথরিটি। কি সাংঘাতিক ব্যাপার? এক ঢাবি নিয়ে আপত্তিকর কথা বললেই (ধরে নিলাম মিথ্যা ; কিন্তু বাস্তবতা সত্যের কাছাকাছি ) তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করতে হবে? তাতেও জিঘাংসু মনের খায়েশ মিটেনি। মানসিক চিকিৎসা করার সরকারী নির্দেশনা দিয়ে সুশান্তকে বুঝিয়ে দেয়া হলো - ঢাবিয়ানরা কতটা পারে দ্যাখ। সুশান্তকে সর্বোচ্চ চপেটাঘাত করলো। ঢাবি যেন পবিত্র ধর্মগ্রন্থ! খবরদার, কোন কথা বলা যাবেনা। ঠিক বর্তমানের বাকশালী শাসনব্যবস্থার মত।

আমি খুব ভালভাবে বুঝতে পারি, স্ট্যান্ড রিলিজ ও মানসিক ডাক্তার দেখানোর নির্দেশনা যারা দিয়েছেন, তারা সকলে ঢাবির এক্স স্টুডেন্টস। ইমোশনাল হয়ে ডিসিশন দিয়েছেন। ক্ষমতার দাপট দেখিয়েছেন। সুশান্তকে ব্যাক শট মেরেছেন। আমি স্পষ্ট করে বলতে পারি, নাগরিক হিসেবে সুশান্তের সাথে জুলুম করা হলো। অন্যায় করা হলো। সুশান্ত মিথ্যাচার করলে তার বিচার হতে পারে। কিন্তু যে পক্রিয়ায় তাকে পাগল বানিয়ে দেয়া হলো, তাতে কিন্তু অন্যেরা ছাগলে পরিণত হলো। ঢাবি সংশ্লিষ্ট সবাই হয়তো এখন উল্লাস করছে, ইয়াহু বলে শূন্যে হাত ফ্লায়িং করছে- কিন্তু সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি ঢাবির মানসিক হিনমন্যতা আর শ্রেষ্টত্বের স্বঘোষিত মোড়লীপনার নগ্ন প্রকাশ দেখছি। একজন ব্যক্তির উপর প্রাতিষ্ঠানিক অত্যাচার দেখতে পাচ্ছি।

আমি ঢাবিতে পড়তে পারিনি। বরাবরই হাপিত্যেশ করতাম। আজ একটু প্রশান্তচিত্তে বলছি- এই মুহুর্তে ঢাবিয়ান না হয়ে স্বস্তিতে আছি।

সুশান্ত দাদা। মোটিভেশনের একাডেমিক সংজ্ঞা, বয়ান এবং তার বাস্তবিক প্রয়োগের পার্থক্যটা নিশ্চয় বুঝতে পারছেন। আজ গভীর রাতে আমি আপনাকে মোটিভেট করছি। চোখ বন্ধ করুন। নিশ্চয় অসংখ্য বনি আদমের এক সমাবেশ দেখতে পাচ্ছেন। যারা ফ্যাসিবাদী সরকারের জুলুম নির্যাতনের কারনে বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহনই করতে পারেনি। সাথে অসংখ্য সৎ বিসিএস ক্যাডার, যারা বাকশালের যাঁতাকলে পড়ে ওএসডি। আপনি এবার সেই সমাবেশের প্রধান অতিথি। বেশ না?

শুরু করুন- সুপ্রিয় উপস্থিতি..............